ব্রেকিং নিউজ :
দেশে খুন-খারাবি কমছেই না: জনমনে আতঙ্ক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রোববার শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ, শেষ মুহূর্তে পদক প্রদান স্থগিত দেশীয় বই-পুস্তক বিশ্ববাজারের রপ্তানিযোগ্য পণ্য হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ শুভেন্দুর শপথ আজ, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদিসহ ২০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন, ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ১০ বছরের মাদকবিরোধী চুক্তিতে সই করল বাংলাদেশ-পাকিস্তান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন থালাপতি বিজয় মন্ত্রিপরিষদে আসছে ৫ নতুন মুখ দুটি রাষ্ট্র চুক্তি করলে চট করে পরিবর্তন করা যায় না: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী

১৪ বছরে শ্রম-কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ১৬৮ কোটি টাকা বিতরণ, শ্রমিকরা পাচ্ছে পেনশনও

  • Update Time : শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ৮ Time View

দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শ্রম-কল্যাণ ফাউন্ডেশন। শিল্পায়নের এই সময়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বাংলাদেশ শ্রম-কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে তিনটি ক্যাটাগরিতে মৃত, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়। ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছরে ৩৬ হাজার ২৪০ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে ১৬৮ কোটি ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৫ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

একই সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে পাচ্ছেন পেনশনও।
যদিও শ্রম-কল্যাণ ফাউন্ডেশন শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে, তবে এর কার্যক্রম নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

অনেক শ্রমিক এখনো এই ফাউন্ডেশনের সুবিধা সম্পর্কে অবগত নন। তাছাড়া সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল হওয়ায় ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
এর কার্যকারিতা আরও বাড়াতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
তাদের মতে, শ্রম-কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি, আবেদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্রমিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়ানো হলে এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ফাউন্ডেশনের তহবিল বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা প্রদান জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রান্তিক শ্রমিকদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।

জানা গেছে, শ্রম-কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা দান। শ্রমিকদের কল্যাণে একটি টেকসই সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতেই এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ। এই অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়, যা শ্রমিকদের জন্য একটি সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশ শ্রমিক-কল্যাণ ফাউন্ডেশনের অনুদান বিতরণ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ২৪০ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে ১৬৮ কোটি ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৫ টাকা আর্থিক সহায়তা দান করেছে। এর মধ্যে মৃত ১১০২ জনকে ৯ কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা খাতে ৩২,৯৩২ জনকে ১৪৯ কোটি ৪৭ লাখ ০৩ হাজার ৩৫৫ টাকা, শিক্ষা খাতে ২২০৬ জনকে ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৫৫ জন শ্রমিককে ১ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ১১১ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৪৪ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭০ জন শ্রমিককে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৫ টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ৩ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৬৭ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৫ টাকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮৭ জন শ্রমিককে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ১ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৮৬ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৭ জন শ্রমিককে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ২ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৩৫ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯২১ জন শ্রমিককে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ১৭১ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৪৬৯ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ২৮১ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪০৬ জন শ্রমিককে ৭ কোটি ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ৬৬ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৬৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ১০৫২ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ২৮৯ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা।২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৮৩৩ জন শ্রমিককে ১৫ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ১২৬ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৩৪২২ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ২৮২ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ২২৬২ জন শ্রমিককে ৭ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ৫৪ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৩২ লাখ ১০ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ২০৯৭ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ১১১ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ৩৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৮২৩ জন শ্রমিককে ১৩ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ১৪১ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৩৩৬৮ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১১ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ৩১৪ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।২০২১-২২ অর্থবছরে ২৬৪৫ জন শ্রমিককে ১৫ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ৭৯ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ২৪৩৫ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ১৩১ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮১৫০ জন শ্রমিককে ৪৪ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ১৭৭ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৭৭১২ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৪২ কোটি ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ২৬১ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৫ হাজার টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৮৯৮ জন শ্রমিককে ৩১ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ৪৩ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৬৬৯২ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৩০ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ১৬৩ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৪১৬ জন শ্রমিককে ১৯ কোটি ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৃত ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা ৯৮ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ৩৯৯৯ জন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ হাজার টাকা এবং শিক্ষা খাতে ৩১৯ জন শ্রমিকের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন সাড়ে ৬ কোটি শ্রমিকের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ ফান্ড থেকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও মৃত-এই তিন ক্যাটাগরিতে শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সহায়তা আরও বাড়বে। আমরা মূল টাকায় কখনো হাত দিই না। সেটি সোনালী ব্যাংকে এফডিআর আকারে রমনা করপোরেট শাখায় রাখা আছে। আমরা সেখান থেকে যে মুনাফা পাই, সেটিই সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি প্রতিষ্ঠান ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের মুনাফার দশমিক ০৫ শতাংশ আমাদের ফান্ডে দিয়েছে। তবে এখনও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের অংশ দিচ্ছে না। এনবিআরের সহায়তায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শ্রমিকদের ওপর। বিশেষ করে নিম্নআয়ের শ্রমিকরা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের পরিধি ও মাত্রা বাড়ানো প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের চেতনা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও কেন্দ্রীয় তহবিলের পরিচালক তাহমিনা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেই এই ফাউন্ডেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিক স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে বা মারা গেলে পরিবারকে এককালীন অনধিক ২ লাখ টাকা, দুরারোগ্য ব্যাধিতে অনধিক ১ লাখ টাকা, উচ্চ শিক্ষায় অনধিক ৩ লাখ টাকা, জরুরি চিকিৎসায় অনধিক ৫০ হাজার টাকা, মরদেহ পরিবহন ও সৎকারে অনধিক ২৫ হাজার টাকা এবং মাতৃত্বকালীন সহায়তায় অনধিক ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ২০২২ সাল থেকে ১৯১ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবার পেনশন পাচ্ছেন, যা সর্বশেষ বেতনের ৬০ শতাংশ। মৃত ব্যাক্তির ক্ষেত্রে স্বামী/স্ত্রী/ বা ছেলে/মেয়ে বা মা/বাবা এই সুবিধা পাচ্ছেন৷ তবে মা/বাবা সুবিধা পাবেন আমৃত্যু পর্যন্ত। আর সন্তানেরা পাবেন ছেলে হলে ১৮ বছর পর্যন্ত আর মেয়ে হলে বিবাহের আগ পর্যন্ত এবং স্বামী/স্ত্রী হলে দ্বিতীয় বিয়ে না করা পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের তিন মাস পর্যন্ত মাসে ৫ হাজার টাকা সহায়তাও দেওয়া হয়।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর খান বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে এটিকে আরও কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানো জরুরি।

শ্রম আইন অনুযায়ী, কোম্পানির নিট লাভের শতকরা পাঁচ ভাগ বিভিন্ন উপায়ে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে হয়। শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত এই অঙ্কের ১০ ভাগের এক ভাগ জমা দিতে হয় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে। এক ভাগ কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ (নিজস্ব) শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে জমা রাখতে হয়। বাকি আট ভাগ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025 shadinota
Design & Development By HosterCube Ltd.